মুক্তিযুদ্ধের উপ সেনাপতি এ কে খন্দকার আর নেই
প্রকাশ : ২০-১২-২০২৫ ১৯:০৯
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিজয়ের মাসে চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান বীর সেনানী এ কে খন্দকার বীর উত্তম। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যের কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনামলে পরিকল্পনামন্ত্রী হন।
এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পাবনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার।
এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা, বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান এবং একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যুদ্ধ পরবর্তী বিমান বাহিনী পুনর্গঠন করেন। তার নামে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী থেকে ভারতে যোগ দেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন।
যুদ্ধের সময় তিনি নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে প্রথম বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (কিলো ফ্লাইট) প্রতিষ্ঠা করেন, যা সীমিত সম্পদ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে। ধীনতার পরে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমান বাহিনীকে পুনর্গঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১১ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান।
এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। তার আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।
এ কে খন্দকারের লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com