weather ২৬.৭৮ o সে. আদ্রতা ৭৩% , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকে ৩০৩ শিশু

প্রকাশ :

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকে ৩০৩ শিশু

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে ২৯৮ থেকে ৩০৩টি শিশু অবস্থান করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫১ শিশু রয়েছে কাশিমপুর কারাগারে। 

অধিদপ্তর আরও জানায়, প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে অবস্থান করা এসব শিশুর বিকাশ এবং সুরক্ষা নিশ্চিতে নিয়মিত খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়। 

কারাগারে থাকা এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার্থে কিছু সুপারিশও করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে গত ৮ মে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ এ বিষয়ে প্রকাশিত অভিমত যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত জুন মাসে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদেশে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের সংখ্যা, বয়সসহ সার্বিক অবস্থান–সংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর রিট আবেদনকারী বরাবরে ওই প্রতিবেদন পাঠায়। রিট আবেদনকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ সোমবার (১২ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি সপ্তাহে সমন্বিত প্রতিবেদনটি হাতে এসেছে। কারাগারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের তত্ত্বাবধান করা হয়ে থেকে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবেন। প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘শিশু সুরক্ষা ইউনিট’ ও ‘প্রবেশন শাখার’ সমন্বিত মতামত–সংবলিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলা এবং আটটি সিএমএম আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কাজ করে থাকে।

রিট আবেদনে সংযুক্ত কারা অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ২৯৯টি শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ১৫৩টি মেয়ে এবং ১৪৬টি ছেলে।

এসব শিশুর মায়েদের কেউ সাজা খাটছেন, আবার কারও মামলা বিচারাধীন। মায়েদের বেশির ভাগই মাদক মামলার আসামি বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগের ১৮টি কারাগারে ১০০টি শিশু, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ৯০টি, রাজশাহী বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫টি, সিলেট বিভাগের পাঁচটি কারাগারে ১৯টি, রংপুর বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫টি, খুলনা বিভাগের ১০টি কারাগারে ২০টি, ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি কারাগারে ১৩টি এবং বরিশাল বিভাগের ছয়টি কারাগারে চারটি শিশু ছিল।

কারাগারগুলোর মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে সবচেয়ে বেশি শিশু থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ৪ মে পর্যন্ত সেখানে ৫১টি শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ২৪টি ছেলে ও ২৭টি মেয়ে।

এসব শিশুকে কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে থাকতে হয়। সেখানে হত্যা ও মাদক মামলাসহ বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ও হাজতিরাও থাকে বলেও সংযুক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ করণীয় ও সুপারিশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের পরিবেশ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে অনুকূল নয়। তাই কারাগারে অবস্থানরত শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার্থে ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্ন এবং সরকারি শিশু পরিবারে আবাসন বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্ন বিষয়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে সমাজের নিকটাত্মীয়দের কাছে ‘ফস্টার কেয়ার’ বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় পুনর্বাসন করা যেতে পারে।

সরকারি শিশু পরিবারে আবাসন বিষয়ে বলা হয়, কোনো শিশুর ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়দের কাছে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে বা তা শিশুর জন্য নিরাপদ না হলে ওই শিশুর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনকেন্দ্রে রেখে তার সার্বিক লালন–পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কারাবন্দী মায়ের অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা শিশুর বিকাশ ও মাতৃস্নেহ পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। লঘু অপরাধে অভিযুক্ত মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের জন্য বিকল্প অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের একটি ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। তবে এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকে ৩০৩ শিশু কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকে ৩০৩ শিশু অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড সাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস, টানা ৫ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা সাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস, টানা ৫ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা দেশজুড়ে বৃহস্পতি-শুক্রবার এলপিজির দোকান বন্ধ ঘোষণা দেশজুড়ে বৃহস্পতি-শুক্রবার এলপিজির দোকান বন্ধ ঘোষণা জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা